প্রথম খণ্ড আমরা হোটেলের সবচেয়ে বড় রুমটাই নিয়েছিলাম। রুমে চারটা বেড, মানুষ আমরা নয় জন। এটাচড বাথরুম একটা। এক্ষেত্রে একটা সমস্যা হয়, কে কার আগে বাথরুমে যাবে। সারাদিন ঘুরাঘুরির পর আমাদের সবারই গোসল করতে হবে। এবং প্রত্যেকে গোসল করতে গড়ে সাত মিনিট করে লাগলে নয় জনের একঘণ্টারও বেশি। তবে সবাই একটু তাড়াতাড়িই গোসল করার চেষ্টা করছিলাম। যারা প্রথম খণ্ড পড়েছেন তারা অবশ্যই বুঝে গেছেন। রিঝুক ঝর্ণা থেকে আসার পর জাইন সম্ভবত গোসল করতে ঢুকেছিল। বাকিরা সারাদিনের ভ্রমণ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ শুরু করলো। এদিকে সামি যে কখন সামনের বারান্দা খুলে যে সামনের হিলটন হোটেলের দিকে লক্ষ্য রাখছিল আমরা কেউ খেয়াল করি নি। হঠাৎ সে এসে বললো, “ভেরোনিকা তো তাদের আশেপাশের রুমে যারা আছে তাদের সবাইকে ‘হাই’ দিয়ে বেড়াচ্ছে।” আমরা অবাক হলাম না। বিদেশিনীদ্বয়ের ঢিলা স্বভাবের পরিচয় আমরা নৌকাতেই পেয়েছি। গোসল শেষ হলে ক্যামেরা হাতে আমরা বের হলাম বান্দরবান শহর ঘুরে দেখতে। তাছাড়া পাহাড়ে উঠার বিশেষ স্যান্ডেলও কিনতে হবে। স্যান্ডেল পাওয়া গেল, শুধু আমার পায়ের মাপের স্যান্ডেল পাওয়া গেল না। এদিকে বান্দরবানে স্যান্ডেল পাওয়া যাবে এই ভেবে আমি কে...
[এটা ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারি মাসের ভ্রমণ কাহিনী।] আমি জীবনে যতগুলো ভ্রমণপিয়াসু ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি তাদের সবাই একটা কথা বলেছেন, “বান্দরবান বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা”। তাই স্বভাবতই আমারো ইচ্ছা জেগেছিল বান্দরবান ঘুরে আসার। আর আমাদের বুয়েটিয়ান চিটাইঙ্গা গ্রুপ যারা পোংটামি করার জন্য বিখ্যাত তারাও অনেক দিন ধরে বান্দরবানের প্ল্যান করছিল। আমাদের টার্ম ফাইনাল শেষ হবার পর ব্যাটে বলে মিলে যাওয়ায় আমাদের যাত্রার তারিখ ঠিক হল ২৮ জানুয়ারি। যারা যাত্রা করতে মনস্থ করলাম তারা হল অনিক, জাইন, সামির, নিজামি, বাসিত, ফাহিম, নওশাদ এবং আমি। শেষ মুহুর্তে আমাদের সাথে যোগ দিল শাকির বিন মুজিব সামি। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ছুটলাম বহদ্দারহাট টার্মিনালের দিকে। অল্পক্ষণের মধ্যেই সবাই চলে এল। বাসিত লেট করার জন্য বিখ্যাত। ফোন করলে সে বাসায় বসে থেকেই বলে, “আর দুই মিনিট লাগবে” সে পর্যন্ত একটুও দেরী করলো না। দেরী না করে বাসে উঠে পড়লাম। বাসের নাম মনে নেই। ভাড়া লেগেছিল খুব সম্ভবতঃ দেড়শ টাকার মতো। সকল বাস বা ট্রেন জার্নিতে যেটা হয়, শুরুতেই কিছুক্ষণ খুব মাস্তি চলে। একজন আরেকজনকে পচানোর চেষ্টা করে। আমাদের মধ্যে সেটা...