Skip to main content

বান্দরবান ভ্রমণ(দ্বিতীয় খণ্ড)

আমরা হোটেলের সবচেয়ে বড় রুমটাই নিয়েছিলাম। রুমে চারটা বেড, মানুষ আমরা নয় জন। এটাচড বাথরুম একটা। এক্ষেত্রে একটা সমস্যা হয়, কে কার আগে বাথরুমে যাবে। সারাদিন ঘুরাঘুরির পর আমাদের সবারই গোসল করতে হবে। এবং প্রত্যেকে গোসল করতে গড়ে সাত মিনিট করে লাগলে নয় জনের একঘণ্টারও বেশি। তবে সবাই একটু তাড়াতাড়িই গোসল করার চেষ্টা করছিলাম। যারা প্রথম খণ্ড পড়েছেন তারা অবশ্যই বুঝে গেছেন।
রিঝুক ঝর্ণা থেকে আসার পর জাইন সম্ভবত গোসল করতে ঢুকেছিল। বাকিরা সারাদিনের ভ্রমণ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ শুরু করলো। এদিকে সামি যে কখন সামনের বারান্দা খুলে যে সামনের হিলটন হোটেলের দিকে লক্ষ্য রাখছিল আমরা কেউ খেয়াল করি নি। হঠাৎ সে এসে বললো, “ভেরোনিকা তো তাদের আশেপাশের রুমে যারা আছে তাদের সবাইকে ‘হাই’ দিয়ে বেড়াচ্ছে।” আমরা অবাক হলাম না। বিদেশিনীদ্বয়ের ঢিলা স্বভাবের পরিচয় আমরা নৌকাতেই পেয়েছি।
গোসল শেষ হলে ক্যামেরা হাতে আমরা বের হলাম বান্দরবান শহর ঘুরে দেখতে। তাছাড়া পাহাড়ে উঠার বিশেষ স্যান্ডেলও কিনতে হবে। স্যান্ডেল পাওয়া গেল, শুধু আমার পায়ের মাপের স্যান্ডেল পাওয়া গেল না। এদিকে বান্দরবানে স্যান্ডেল পাওয়া যাবে এই ভেবে আমি কেডস না এনে আমার তলা ক্ষয় হয়ে যাওয়া Weinbrenner এর স্যান্ডেলটাই পরে এসেছি। পরে এজন্য আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।(পাহাড়ে উঠতে হলে স্যান্ডেল বা কেডস যাই পরুন না কেন তার সোল যেন যথেষ্ট এবড়োথেবড়ো হয় সেটার দিকে লক্ষ্য রাখবেন। না হলে পা পিছলে যেতে পারে)।
অবশেষে সোয়া নয়টা বাজলো। আমাদের ডিনার টাইম চলে এল। আমরা দুই বিদেশিনীর সাথে তাদের হোটেলের নিচে মিলিত হলাম। রুমা বাজারের এক প্রান্তে জিসান নামে খুব ভালো একটা খাবার হোটেল আছে। আমরা সেদিকেই চললাম। নওশাদ আমার কানে কানে বললো, “এই দুইজনের রাতের খাবারের বিলও কি আমরা দিবো?” আমি বললাম, “তাই তো মনে হচ্ছে।” যাই হোক জিসানে গিয়ে আমরা বড় একটা গোল টেবিল নিলাম। দুই এনকার পাশে বসলো নিয়ন এবং ভেরোনিকার পাশে ফাহিম। হাত ধুয়ে আসার সময় নিয়ন তার হাতের ক্যামেরাটা টেবিলে রেখে গিয়েছিল। হাত ধুয়ে এসে দেখি সেটা দুই বিদেশিনীর হাতে। তারা ছবি দেখছে এবং হাসছে। একটু পরে খেয়াল হল রিঝুক ঝর্ণায় আমাদের একজন এই দুই বিদেশী যুবতীর বিভিন্ন সরস এঙ্গেলের বেশ কয়েকটি ছবি তুলেছিল। তারা সেই ছবি দেখছে আর হাসছে। কি আর করা! আমরাও হাসতে লাগলাম।
যাই হোক খাওয়া দাওয়া হল। নৌকার মত বিদেশিনীদের খাওয়া দাওয়ার বিলও আমরা দিলাম। এদের দেখে যা বুঝলাম তারা মানুষজনের কাছ থেকে কার্টিসি এর সুবিধা নিতে বেশ এক্সপার্ট। যদি সত্যিই বিশ্বভ্রমণে বের হয়ে থাকে তারা তবে এইটুকু তো জানাই লাগবে। খাওয়া শেষ হবার পর আমরা হোটেলের দিকে হাঁটতে লাগলাম। শীত এর শেষ দিক হলেও পাহাড়ী এলাকা, ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিকেও জানুয়ারীর মত শীত। নওশাদ খেয়াল করলো নিঃশ্বাসের সাথে ধোঁয়ার মত বেরুচ্ছে(তীব্র শীতের সময় যা হয় আর কি)। নওশাদ আর নিজামী এনকা ও ভেরোনিকার সাথে হাঁটছিল। আমি জাইন আর আপেল হাঁটছিলাম সামনে, বাকিরা পিছনে। নওশাদ নিঃশ্বাসের ধোঁয়ার উপর টর্চের আলো ফেলছিল। এনকা এটা দেখে উৎসাহী হয়ে বললো যে, সেও করতে চায়। এনকার নিঃশ্বাসের উপর টর্চের আলো ফেলতে গিয়ে নওশাদ এনকার ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে গেল। তাদের কাণ্ড দেখে আমি বললাম, “ভালোই তো মজা দিচ্ছে দেখি।” আপেল বললো, “আমারে দুইজন মইধ্যখানে বসাইছে কেন জানেন?”
-কেন?
-আমারে নিগ্রো ভাবছে। নিগ্রোদের রগ শক্ত হয় তো এই জন্য।
শুনে ভাবলাম নিগ্রোদের মত চেহারা হবার অসুবিধার সাথে খানিকটা সুবিধাও আছে দেখি।
একদম মাঝের জন হল আমাদের গাইড আপেল মল্লিক। নিগ্রোদের মতই দেখতে, কি বলেন?একদম মাঝের জন হল আমাদের গাইড আপেল মল্লিক। নিগ্রোদের মতই দেখতে, কি বলেন?

যাই হোক এইভাবে হোটেলের নিচে এসে পৌছলাম। দুই বিদেশী যুবতী জিজ্ঞাসা করলো সকালের নাস্তা কখন করবো(এটাও আমাদের টাকায় করার মতলব আর কি)। এইবার বিজ্ঞ অনিক মুহুরী বললো, “We will start very early in the morning.” আর কি। বিদায় নেবার পালা। এনকা বলতে লাগলো, “You are very nice boys. So helpful.” ভেরোনিকা বলে, “I will never forget you.” বাসিত তাদের কাছ থেকে তাদের ই-মেইল আর ফেসবুক আইডি জেনে নিল। সে নাকি তাদের ছবিতে ট্যাগ করবে। বিদায়ক্ষণে আমাদের চারজনকে ভেরোনিকা উষ্ণ আলিঙ্গনে বাঁধল। সেই সৌভাগ্যবানরা হলঃ নিজামি, নিয়ন, বাসিত ও সামি। আমরা বাকিরা হ্যান্ডশেক করেই সন্তুষ্ট থাকলাম।
আমাদের রুমে বেড চারটা মানুষ নয়জন। তাই যেকোন এক বেডে তিনজন থাকা লাগবে। আমরা চাইছিলাম যে, আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কম চওড়া তিনজন নওশাদ, সামি আর জাইন এক বেডে থাকবে। এটা বলতেই জাইন অভিমান করে বসলো। সে বলে, “আমি মাটিতে থাকুম।” জাইন বলে আমি নাকি তার ভাই। ভাইয়ের অভিমান ভাঙ্গাতে আমিই রাজি হলাম নওশাদ আর সামির সাথে ঘুমাতে।
আবার শুরু হল পচানি উৎসব সারাদিনের রিভিউ নিয়ে। অনিক মুহুরী বলল সে ভবিষ্যতে একটা জিসানের মত বড় রেস্টুরেন্ট দেবে। সেখানে সব বিদেশিনীরা আসবে। দোকানের একপাশে একটা কাউন্টার থাকবে, সেখানে নিয়ন বসে থাকবে এবং একটা স্পেশাল আইটেম থাকবে যার নাম ‘নিয়ন চাট’ (নিয়ন চাটের মানে সামনাসামনি জেনে নেবেন)। একটু পরে নিজামী বললো, “চল, এনকা আর ভেরোনিকারে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই।” সামি বলে, “আমি তো অলরেডি পাঠায় দিছি।” রাতে সবাই আরো অনেকক্ষণ জেগে ছিল, অনেক মজা করেছে। শুধু আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে শুনেছিলাম রাতে নিয়নকে অনেক পচানো হয়েছিল ভেরোনিকাকে নিয়ে। নিয়ন নাকি বারবার বলছিল, "দোস্ত চল গিয়ে ওদের সাথে গল্প করি" "দোস্ত অন্ততঃ একটা ছবি তুলে আসি।" ইত্যাদি ইত্যাদি।
রাতে আগে ঘুমিয়ে পড়ার সুবাদে খুব সকালেই ঘুম ভাংলো। একে একে সবাইকে ডাকতে লাগলাম। আমাদের মধ্যে অনিক মুহুরীকে কুম্ভকর্ণের সাথে অনায়াসেই তুলনা করা যায়। তার দেহ যেমন কুম্ভকর্ণের মত বিশাল তার ঘুম ভাঙ্গানোও সেই পরিমাণেই কষ্টকর। সেও উঠে গেল। কিন্তু তিন ঢিলা ফাহিম, বাসিত আর নিয়ন কিছুতেই ঘুম থেকে উঠছিল না। আমি ততক্ষণে শার্ট প্যান্ট পরে রেডী হয়ে আছি। শেষে আমি মেজাজ খারাপ করে ঘোষণা দিলাম যে, আমি তিন পর্যন্ত গুণবো। এর পরেও যে উঠবে না তার পাশে আমি শুধু বক্সার পরে বসে ছবি তুলবো। তাও কারো কোন বিকার নেই। আমি তিন পর্যন্ত গুণে শার্ট আর প্যান্ট খুলে ফেললাম। সাথে সাথে ধরমর করে ফাহিম আর বাসিত উঠে পড়ল। নিয়নের শেষরাতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়েছিল। তাই সে উঠতে পারলো না। অসহায় নিয়নের সাথে আমার একটি বক্সার পরা ছবি উঠে গেল।

অনিক এসে সবকিছু দেখে একটু হতভম্ব হয়ে গেল। সেই হতভম্ব ভাব এড়াতে সে নিয়নকে বলে, "উঠ ব্যাটা, বের হইতে হবে"। হঠাৎ তার চোখে পড়ল নিয়ন এর বালিশে চোখের পানির দাগ। হয়তো যখন রাতে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তখন চোখ থেকে পানি পড়েছিল। কিন্তু অনিক পচানির সুযোগ ছাড়বে কেন? "ম্যান, আমি বলছিলাম না? নিয়ন ভেরোনিকাকে ভালোবাসে। ভেরোনিকার জন্য সারারাত কান্না করছে ব্যাটা। ভেরোনিকা আপেলের সঙ্গে মাখামাখি করছে দেখে এত কষ্ট পাইছে যে শ্বাসকষ্ট হই গেছে।" এখন পচালে তো হবে না। বের হতে হবে। অনিককে থামিয়ে নিয়নকে বাথরুমে পাঠানো হল। আমার নিজের এজমার সমস্যা আছে বলে আমার সাথে শ্বাসকষ্টের ঔষধ ছিল। সেটাই নিয়নকে খাইয়ে দিলাম। এর মধ্যে একটা চমকপ্রদ খবর দিল সামি। ভেরোনিকা তার ফেসবুক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করছে। শুনে সবাই খানিকটা টাস্কিত এবং খানিকটা লুলায়িতও বটে।
আমরা যেই গাড়ি করে নীলগিরি ঘুরতে গেছিলাম সেই গাড়ির ড্রাইভারের সাথে কথা বলে রুমা বাজারে একটা চান্দের গাড়ি ম্যানেজ করা হয়েছিল। সকাল আটটা নাগাদ সেই গাড়ি চলে আসলো। আমরা বের হলাম পৌনে নয়টায়। হোটেলের পাশেই ছিল আর্মি ক্যাম্প। সেখানে নাম লিখাতে হল। তারপর আমরা রওনা দিলাম। পথিমধ্যে জিসান হোটেল পড়লো সেখানেই নাস্তা সেরে নিলাম। রুমা থেকে বগালেকের পাদদেশ পর্যন্ত গাড়ির রাস্তা। নীলগিরিতে যাবার সময় যেভাবে গাড়ির ছাদের শিকের ফাঁক দিয়ে মাথা বের করে মাস্তি করতে করতে গিয়েছিলাম এখানে সেই সুযোগ নেই। রাস্তা আঁকাবাঁকা, কোথাও ঢালু কোথাও উচু, আবার কোথাও একদিকে কাত, একপাশে ঘন জঙ্গল। জাস্ট দুই ফিট স্কিড করলেই গাড়ি খাদে গিয়ে পড়তে পারে। মাঝে মাঝেই বাঁশঝাড় রাস্তার দিকে এলিয়ে আছে। ছাদ দিয়ে মাথা বের করে রাখলে নির্ঘাত মাথায় বাড়ি খেতে হবে। ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করা হল, “ভাই জঙ্গলে পশু পাখি নাই?” ড্রাইভারের উত্তর, “বোমরা(বোম একটি উপজাতির নাম, মূলত বান্দরবানেই থাকে) লোহা আর হাগু এই দুই জিনিস বাদে সব খায়। জন্তু জানোয়ার থাকবে কিভাবে?”
যখন বগালেকের পাদদেশ পৌছুলাম তখন বাজে প্রায় সাড়ে এগারোটা। গাড়ির রাস্তা শেষ। এখন প্রায় এক কিলোমিটারের মত রাস্তা হেঁটে উঠতে হবে। বগালেকের পাদদেশে কিছু দোকান আছে। সেখানে বাঁশের লাঠি কিনতে পাওয়া যায়। বাঁশের লাঠিতে ভর দিয়ে পাহাড়ে উঠা সুবিধাজনক। প্রতিটা লাঠি দশ টাকা। সবাই লাঠি নিলাম। এরপর বান্দরবানের প্রথম সত্যিকারের উর্ধ্বযাত্রা শুরু। দুই বছর আগে আমার পরিচিত এক জুনিয়র ছেলে খুব ভাব নিয়ে আমাকে বলেছিল যে, বগালেকে উঠার রাস্তা মাত্র দুই ফুট চওড়া, একপাশে গভীর খাদ, রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠতে হয়। বাস্তবে দেখলাম আহামরি কিছু না। রাস্তা কম করে হলেও পাঁচ ফুট চওড়া। একপাশে খাদ আছে সত্য তবে যেদিকে খাদ আছে সেদিকে ছোট ছোট গাছও আছে। আর অন্যপাশে ঝোপঝাড়। বেশি ভয় লাগলে ওই ঝোপ ঝাড় ধরে উঠার সুবিধাও আছে।
বগালেকের পথে১বগালেকের পথে১
বগালেকের পথে২বগালেকের পথে২
বগালেকের পথে৩বগালেকের পথে৩

আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো স্ট্যামিনা ফুটবল স্ট্রাইকার জাইন আর নাট্যব্যক্তিত্ব আব্দুল বাসিতের। কিন্তু সবার আগে হনহন করে চলছিলাম আমি আর সামি। বাকিরা সবাই একসাথে আসছিল কারণ নিয়ন আগের রাতের শ্বাসকষ্টের কারণে সামান্য দুর্বল আর নওশাদের স্ট্যামিনাও সামান্য খারাপ আর তার উচ্চতাভীতিও প্রবল। আমি আর সামি বেশ আগে আগে চলে যাওয়ায় অনিক মুহুরি আমাদের উপর খানিকটা রাগও করেছিল। এক সময় রাস্তা শেষ হল। সামি এবং আমার চোখের সামনে উদ্ভাসিত হল বাংলাদেশের উচ্চতম হ্রদ বগালেক (বগালেক সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ১২০০ ফিট উচুতে অবস্থিত, এর আয়তন প্রায় ১৫ একর ও সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ ফিট)। আরো প্রায় ২০ মিনিট পর বাকিরা এসে উপস্থিত হল। নওশাদ একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। অনিক মুহুরী আমাদের দুইজনকে আচ্ছামত ঝাড়লো। অবশ্য ঝাড়াটা আসে।
বগালেকের পাড়ে একটা আর্মি ক্যাম্প আছে। বগালেকের পরে কেউ গাইড ছাড়া যেতে পারে না। বান্দরবানে গাইডদেরও লাইসেন্স থাকে। আর্মি ক্যাম্পে কারা কারা এসেছে তাদের নাম আর গাইডের নাম লিখতে হয়। কেওক্রাডং থেকে ফিরে আসার পর আবার আর্মিরা চেক করে দেখে সবাই ফিরে এসেছে কি না। আমরা আর্মি ক্যাম্পের দিকে এগুলাম। এত কষ্ট করে ঘেমে বগালেকের পাড়ে উঠার পর লেকের পানিতে গোসল করতে তর সইছিল না আমার।
এবং বগালেকএবং বগালেক
আমরা সবাইআমরা সবাই

Comments

Popular posts from this blog

বান্দরবান ভ্রমণ(প্রথম খণ্ড)

[এটা ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারি মাসের ভ্রমণ কাহিনী।] আমি জীবনে যতগুলো ভ্রমণপিয়াসু ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেছি তাদের সবাই একটা কথা বলেছেন, “বান্দরবান বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা”। তাই স্বভাবতই আমারো ইচ্ছা জেগেছিল বান্দরবান ঘুরে আসার। আর আমাদের বুয়েটিয়ান চিটাইঙ্গা গ্রুপ যারা পোংটামি করার জন্য বিখ্যাত তারাও অনেক দিন ধরে বান্দরবানের প্ল্যান করছিল। আমাদের টার্ম ফাইনাল শেষ হবার পর ব্যাটে বলে মিলে যাওয়ায় আমাদের যাত্রার তারিখ ঠিক হল ২৮ জানুয়ারি। যারা যাত্রা করতে মনস্থ করলাম তারা হল অনিক, জাইন, সামির, নিজামি, বাসিত, ফাহিম, নওশাদ এবং আমি। শেষ মুহুর্তে আমাদের সাথে যোগ দিল শাকির বিন মুজিব সামি। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে ছুটলাম বহদ্দারহাট টার্মিনালের দিকে। অল্পক্ষণের মধ্যেই সবাই চলে এল। বাসিত লেট করার জন্য বিখ্যাত। ফোন করলে সে বাসায় বসে থেকেই বলে, “আর দুই মিনিট লাগবে” সে পর্যন্ত একটুও দেরী করলো না। দেরী না করে বাসে উঠে পড়লাম। বাসের নাম মনে নেই। ভাড়া লেগেছিল খুব সম্ভবতঃ দেড়শ টাকার মতো। সকল বাস বা ট্রেন জার্নিতে যেটা হয়, শুরুতেই কিছুক্ষণ খুব মাস্তি চলে। একজন আরেকজনকে পচানোর চেষ্টা করে। আমাদের মধ্যে সেটা...